করোনার প্রভাবঃ দেশে খাবার নেই ১৪ ভাগ মানুষের ঘরেই

উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপে উঠে এসেছে চলমান করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দেশে ৮৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে নেমে গেছেন। আর ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। করোনাভাইরাস মানুষের উপার্জন ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলেছে।

শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক জানায়, দেশের ৬৪ জেলায় ২ হাজার ৬৭৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। গত ৩১শে মার্চ থেকে ৫ই এপ্রিলের মধ্যে এ জরিপ পরিচালিত হয়।

করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যগত দিকগুলো সম্পর্কে নিম্নআয়ের মানুষের উপলব্ধি এবং এর অর্থনৈতিক সংকট সম্পর্কে ধারণা পেতে জরিপটি পরিচালিত হয়।

ব্র্যাকের জরিপে বলা হয়, নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে নেমে গেছেন।

করোনাভাইরাসের পূর্বে আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে এবং ৩৫ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার ঊর্ধ্বসীমার নিচে। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতে চরম দারিদ্র্য আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনমজুরসহ অধিকাংশের আয় ‘শূন্যের কোটায়’

ব্র্যাকের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ জীবিকার দিক থেকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ চরম দরিদ্রে পরিণত হয়েছেন অর্থাৎ দারিদ্র্য রেখার নিম্ন সীমার নিচে নেমে গেছেন।

এই সংকটের আগে আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্য রেখার নিম্ন সীমার নিচে এবং ৩৫ শতাংশ দারিদ্র্য রেখার ঊর্ধ্ব সীমার নিচে ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে চরম দারিদ্র্য আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন বা তাদের কাজ কমে গেছে বলে জরিপে বলা হয়েছে।

নিম্ন আয়ের মানুষদের ৮ শতাংশের কাজ থাকলেও এখনও বেতন পাননি। কৃষি কাজে সম্পৃক্তদের (৬৫%) তুলনায় অ-কৃষিখাতের দিনমজুর বেশি (৭৭%) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫১ শতাংশ রিকশাচালক, ৫৮ শতাংশ কারখানা শ্রমিক, ৬২ শতাংশ দিনমজুর, ৬৬ শতাংশ হোটেল/রেস্তোরাঁকর্মী এই মাসে আয় শূন্যের কোটায় নেমে আসার কথা জানিয়েছে।

৯ শতাংশ ‘জানেনই না’ কী করা উচিত

জরিপে বলা হয়েছে, ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ এর রোগীর চিকিৎসা হয় না। এছাড়া ৯ শতাংশ মানুষ জানেনই না এই অবস্থায় কী করা উচিত।

শতকরা ৯৯.৬ ভাগ মানুষই এই ভাইরাস সম্পর্কে শুনেছেন। এই ভাইরাস আক্রান্ত হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে এ বিষয়ে নারীদের (৩৮ শতাংশ) চেয়ে পুরুষদের (৬০ শতাংশ) ধারণা বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারের পদক্ষেপে ‘অধিকাংশের সন্তোষ’

নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করা এ জরিপে দেখা গেছে, এই মহামারী ঠেকাতে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট বলে মনে করেন বেশিরভাগ মানুষ, ৬৪ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে ৩১ শতাংশ গ্রামের মানুষ এবং ৪০ ভাগ শহরের মানুষ এই ধারণাকে সমর্থন করেননি। মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ (যাদের বেশিরভাগের বাস শহরে) জরুরি ত্রাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

৬৮ শতাংশ মানুষ ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের সাধারণ ছুটির ঘোষণাকে সমর্থন করেন, শতকরা ৭ ভাগ সমর্থন করেন না। ছুটি বিষয়ে সাধারণ মতামত হল, সরকারি ছুটি গড়ে ২২ দিন হতে পারে। এর মধ্যে ৬৪ ভাগ মানুষ ১৪ দিনের বেশি ছুটির পক্ষে।

৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারের খাদ্য সহায়তা জরুরি, অপরদিকে শতকরা ২০ ভাগ চান নগদ অর্থ সহায়তা । শহরের মানুষের (৪৪ শতাংশ) চেয়ে গ্রামের মানুষই (৫০ শতাংশ) খাদ্য সহায়তার পক্ষে বেশি মত দেন।

অনলাইন ডেস্ক

Next Post

ঝালকাঠিতে ৭৫০ হেক্টর জমির সবজি নিয়ে বিপাকে চাষিরা

Sat Apr 11 , 2020
করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে লকডাউন থাকায় কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। এমতাবস্থায় বেশ বিপাকে পড়েছেন ঝালকাঠি জেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষিরা। সারাদেশে যানবাহন বন্ধ ও ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না সবজি। ফলে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে চাষিদের। ঝালকাঠির বাজারগুলোতে দেখা যায়, চাষিরা বাজারে প্রচুর টমেটো, বেগুন, শিম, বরবটি, বাঁধাকপি, […]

Chief Editor

Johny Watshon

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua. Ut enim ad minim veniam, quis nostrud exercitation ullamco laboris nisi ut aliquip ex ea commodo consequat. Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur

Quick Links

error: Content is protected !!